গৃহহীন ঝুরমান বেওয়াকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি উপহার

বয়সে প্রায় ৬০ বছরের কাছাকাছি ঝুরমান বেওয়ার নিজের থাকার কোন ঘর নাই।সারাদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করে রাতে তাঁর বোনের বাড়িতে একটি ঝুপরি ঘরে এই শীতের রাতে অনেক কষ্ট করে থাকেন।অথচ এই ঝুরমান বেওয়া সরকারের কাছে থেকে ভুমিহিন হিসাবে ৯৭ শতাংশ জমি পত্তন হিসাবে নিয়েছিলেন আর সেই জমির মধ্য ৮০ শতাংশ তিনি ৪০ জন ভূমিহীনদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে মানবতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।এই ঘটনা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঝুরমান বেওয়ার জন্য একটি নতুন বাড়ি তৈরি করার নির্দেশ দেন।আর  প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশেই তিনি সরকারের তরফ থেকে একটি নতুন বাড়ি পাচ্ছেন।

এদিকে আজকে শনিবার নাটোর এর জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ ঝুরমান বেওয়া কে সাথে নিয়ে তাঁর নতুন বাড়ি তৈরির কাজের উদ্বোধন করেছেন।ঝুরমান বেওয়ার বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার কৈচরপাড়া গ্রামে,তাঁর বাবার নাম মৃত কছিম উদ্দিন এবং একই জেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে তাঁর বিয়ে হয়েছিল,তাঁর স্বামীর নাম মৃত হাতেম আলী।

এখন থেকে প্রায় ২৯ বছর আগে ঝুরমান বাংলাদেশ সরকারের কাছে থেকে ভূমিহীন হিসাবে ৯৭ শতক জমি পত্তন হিসাবে নিয়েছিলেন,কিন্তু টাকার অভাবে সেই জমিতে ঝুরমান বাড়ি তৈরি বা কোন ফসলও জন্মাতে পারেন নি।তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন এই জমি তিনি সরকারের আস্রায়ন প্রকল্পে দান করে দিবেন।

চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর সেই ৯৭ শতাংশ জমির মধ্য ৮০ শতাংশ জমি তিনি সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন এবং সম্পর্কিত একটি খবর দেশের পরিচিত দৈনিক প্রথমআলোতে একটি খবর প্রকাশিত হয়।এবং বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে এলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই বিধবাকে একটি বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বাড়ির কাজ উদ্বোধনের পর নাটোরের জেলা প্রশাসক বলেন,ঝুরমান বেওয়ার নিজের থাকার ঘর নাই,অথচ তিনিই সরকারের আশ্রয় প্রকল্পের জন্য ৮০ শতাংশ জমি দান করেছেন।ঘটনাটা বিস্ময়কর বটে।তাঁকে জাতীয় বীর বলে উল্লেখ করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক।তিনি বলেন এই বাড়িতে দুইটি শোবার ঘর থাকবে,রান্না ঘর থাকবে,শৌচাগার থাকবে।পরে নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ এর পক্ষ থেকে তাঁকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং একটি চাদর উপহার হিসাবে দেওয়া হয়।এসময় নাটোরের জেলা প্রশাসক ছারাও,ইউএনও,উপজেলা চেয়ারম্যান,সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *