এই মুহূর্তে আমি এবং আমার অতি প্রিয়জন; আমরা দুজনে ঝগড়া করছি

আমাদের ঝগড়া’র বিষয় পাবলিক-প্লেসে সিগারেট খাওয়া।একটা মেয়ের সিগারেট খাওয়া বিষয়ে আমি যেহেতু গত পরশু একটা লেখা লিখেছি; সেই প্রেক্ষিতে তিনি আমাকে বলছেন-তোমার উচিত হয়নি এমন একটা লেখা লিখা।
আমি বলেছি
-কেন উচিত হয়নি?

-তোমার লেখা লাখ লাখ মানুষ পড়ে। লেখা পড়ে যদি কেউ সিগারেট খেতে উৎসাহিত হয়; সেটা নিশ্চয় ঠিক হবে না।

-কিন্তু আমি তো আমার লেখায় পরিষ্কার বলেছি, সিগারেট খাওয়া মোটেই ভালো না। বিষয় সিগারেট খাওয়া না; কে খাচ্ছে, সেটা নিয়ে। এটা কেন বুঝতে পারছেন না?

-এরপরও উচিত হয়নি এভাবে লেখা।

আমাদের ঝগড়া এভাবে চলছিল; এর মাঝে’ই আমার মাথায় এই লেখাটা এসছে। উনার কাছ থেকে পাঁচ মিনিটের বিরতি নিয়ে এই লেখা লিখতে বসেছি।তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে সিগারেট খাওয়া নিয়ে; আমার লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে। সব সময়’ই হয়। এর কারন হচ্ছে, আমরা দুজনে সম্পূর্ণ দুই মেরুর মানুষ। আমাদের জীবনাদর্শ, মতাদর্শ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উনি পুরোপুরি ডানপন্থী মানুষ। আমি পুরোপুরি বামপন্থী না হলেও কিছুটা বাম মতাদর্শ আমার মাঝে আছে। উনি খুব’ই রক্ষণশীল মানুষ আর আমি সম্পূর্ণ’ই উদারপন্থী মানুষ। আপনি আমার লেখার হাজার সমালোচনা করলেও আমি কখনো কিছু মনে করবো না; যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেন সেই সাথে অতি অবশ্য’ই ভাষা সমুন্নত রাখতে হবে।তো, সেদিন ওই লেখা লেখার পর নানান মানুষ নানান রকম কমেন্ট করেছে। এর মাঝে এক ছেলে এসে লিখেছে

– স্যার মশাই’র আবার নারী প্রীতি আছে। উনি ছাত্রী’দের বেশি নাম্বার দেন।আরেকজন এসে লিখেছে

– দেইখেন নারী অধিকার নিয়ে লিখতে গিয়ে নারী’দের সাথে শুয়ে পইড়েন না!এইসব পড়ে মাঝে মাঝে হাসি’ই পায়। হাসি পাবার কারন আছে, সে জন্য’ই হাসি পায়।আরেকজন এসে লিখেছে

– আরে আপনি কিসের ইউনিভার্সিটি’র টিচার। আপনি তো প্রাইমারী স্কুলে পড়ান।আরেকজন লিখেছে

-আপনি তো মানব পাচারকারী!

আমি এইসব কমেন্ট পড়ি, আর নিজেই হাসি।

তো, যে কারনে এই লেখার অবতারণা। আমার অতি প্রিয়জন, যার সাথে আমার মতাদর্শের দিক থেকে কোন মিল নেই; যার সঙ্গে প্রায় প্রতিটা বিষয়ে বিতর্ক হয়; সেই আমরা’ই কিন্তু দিন শেষে এক সাথে থাকি, খাই, ঘুমাই, আনন্দ করি, ঘুরে বেড়াই।এর কারন কি জানেন?আমাদের আদর্শগত ভিন্নমত তো আদর্শের জায়গায়; সেটা কখনো আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে প্রভাব ফেলেনি।

আমি যাকে ভালোবাসি, যার সঙ্গে বেশিরভাগ সময় কাটাই, তাকে কেন ভালবেসেছি জানেন? আমি নিজের কাছে অনেকবার প্রশ্ন করেছি কেন আমি এই মানুৃষটাকে এতো ভালোবাসি?উত্তরে আমি পেয়েছি -“প্রশ্ন”!

এই মানুষটা কখনো আমার কোন কথা চোঁখ বন্ধ করে মেনে নেয়নি। কখনো সব কিছুতে “হ্যাঁ” “হ্যাঁ” বলে বেড়ায়নি উল্টো সমূদয় সকল কিছুতে প্রশ্ন করেছে। প্রশ্ন গুলো সে করেছে গঠন মূলক ভাবে।অন্য কোন মানুষ হলে ভাবত ধ্যাত এর সাথে কথা না বলাই ভালো। কিংবা এড়িয়ে যাওয়ায়ই ভালো অথচ আমি তাকে উল্টো ভালোবাসতে শুরু করছি।

তাই প্রশ্ন করুন, সমালোচনা করুন। আপনার যদি কোন লেখার সমালোচনা করতে হয়, করুন না। সমস্যা তো নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে হবে কেন? আর ভাষা কি সমুন্নত রাখা যায় না?সভ্যতা এবং অসভ্যতার পার্থক্যটাই এখানে। অনেক সময় আমরা ভুলেই যাই- বিতর্কটা আমরা করছি কি কারনে! যেই আমি জীবনে কোন দিন সিগারেট ছুঁয়েও দেখিনি, সেই আমি’ই তো ওই লেখাটা লিখেছি।
লেখা শেষ হয়েছে। যাই তর্ক করে আসি।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *